- টুকিটাকিs

পোলিও ভ্যাকসিন – ২ য় পর্ব

একসময় জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভূমিকা ছিল খুবই নগন্য। এমনকি ১৯৫২ র পোলিওর সেই ভয়াবহ দিনগুলির পরেও সরকার এব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগই নেয়নি। তৎকালীন ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন অফ ইনফ্যান্টাইল প্যারালাইসিস নামে একটি সংস্থা ডঃ সল্ক্ এর মত বিজ্ঞানীদের গবেষণায় অকৃপণ হস্তে গ্র্যান্ট দিত, পক্ষান্তরে এই সংস্থাটির আয়ের উৎস ছিল পাবলিক ও অন্যান্য  চ্যারিটি সমূহ।সরকারের বিশেষ ভূমিকা না থাকলেও আমেরিকার সচেতন নাগরিকরা এব্যাপারে উদ্যোগী ছিলেন। সল্ক্ ভ্যাকসিন ট্রায়াল কালে প্রায় ৩,০০,০০০ স্বেচ্ছাসেবক ২০০ টি স্থানে প্রায় ২০ লক্ষ শিশুর উপর এই ট্রায়াল পদ্ধতি সম্পূর্ণ করে। এই সফল প্রয়োগের পরে আইসেনহাওয়ার প্রশাসন ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বণ্টনের দায়িত্ব বেসরকারী ঔষধ নির্মাতাদের হাতে ছেড়ে দেয়। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সত্য যে এই ভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সময়ও সরকারের কাছে ন্যূনতম একটাও ভ্যাকসিনের ডোজ ছিল না ! ফল যা হবার তাই হল। সংকটের মুহূর্তে খুব কম উৎপাদন হওয়ায় আমেরিকান দের দুর্দশা র সীমা থাকল না। অন্যদিকে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই ভ্যাকসিন উৎপাদনের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ছিল, ফলস্বরূপ ভ্যাকসিনের বিন্দু মাত্র অভাব সেখানে অনুভূত  হয়নি।  এদিকে আমেরিকার এক বেসরকারী ঔষধ নির্মাতা দ্বারা ভ্যাকসিন উৎপাদনে ত্রুটির কারণে তা পোলিও প্রতিরোধের বদলে নতুন করে মানুষকে বিপজ্জনক ভাবে পোলিও আক্রান্ত করতে শুরু করে। ফলে সল্ক্ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।  অবশেষে ১৯৫৬ সালে (মতান্তরে ১৯৫৫) আবিষ্কৃত ডঃ অ্যালবার্ট সেবিনের ওরাল ভ্যাকসিন ধীরে ধীরে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং সল্ক্ এর ইনোকিউলেশন্ ভ্যাকসিন ব্যবহার চিরতরে বন্ধ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *