- History, Study Materials

British Expansion in India : 1772 – 1818 : Part – VI : Lord Minto (1807 – 1813)

গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হবার পর লর্ড মিন্টো সতর্ক পদক্ষেপ ও দৃড় আত্মরক্ষার নীতি গ্রহণ করেন। ইংল্যান্ড তখন নেপোলিয়নের সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধে রত ছিল, তাই ভারতে নতুন করে যুদ্ধ-বিগ্রহে জড়িয়ে মিন্টো ব্রিটিশ সরকারকে আর বিব্রত করতে চাননি। কিন্তু কোম্পানির স্বার্থের ক্ষেত্রে কোনরকম আশঙ্কার সৃষ্টি হলে মিন্টো অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে যেতেন।

মাদ্রাজ সেনাদলে বিদ্রোহ দেখা দিলে তিনি তা কঠোর হাতে দমন করেন। কোম্পানির আশ্রিত রাজ্য ত্রিবাঙ্কুরের দেওয়ান ভেলু তাম্পি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ অস্বীকার করে বিদ্রোহ করলে মিন্টো তা দমন করে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনেন। বাঙলায় ডাকাত দের উপদ্রব দমন করেন। বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের স্বয়ম্ভু সর্দাররা কোম্পানির বশ্যতা অস্বীকার করলে মিন্টোর নির্দেশে ব্রিটিশ সেনা তাদের দুর্গগুলি দখল করে বুন্দেলখণ্ডে ব্রিটিশ আধিপত্য আরও দৃড় ভাবে স্থাপন করে।

সেসময় পাঠান যোদ্ধা সেনাপতি আমীর খাঁ র নেতৃত্বে এক বিরাট সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ পাঠান সেনাদল রাজপুতানা অঞ্চলে বিভীষিকার সৃষ্টি করেছিল। যখন যে অঞ্চলে তারা থাকতো সেখানে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ব্যাপক লুঠপাট চালাতো। এই পাঠান দস্যু দমনের জন্য মিন্টো নাগপুরের ভোঁসলে রাজাকে সাহায্য করেন। পিন্ডারী দস্যু দের যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টির জন্য রেওয়া রাজ্যে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হয়। হরিয়ানার জাঠেরা কোম্পানির বশ্যতা অস্বীকার করলে মিন্টো কালবিলম্ব না করে হরিয়ানা অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসন প্রসারিত করেন। পারস্য উপসাগরে ব্রিটিশ বাণিজ্যকে নিরাপদ করার জন্য মিন্টো পারস্য উপসাগর ও ওমান অঞ্চলে জলদস্যুদের দমন করেন।

পাঞ্জাব কেশরী রঞ্জিত সিং এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে মিন্টো কূটনৈতিক বিচক্ষণতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। শতদ্রু নদীর পূর্ব-দক্ষিণ তীরে যমুনা পর্যন্ত বিস্তৃত শিখ মিশল্ গুলি নিয়ে রঞ্জিত সিং অখিল শিখ সাম্রাজ্য গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। দিল্লীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার আশঙ্কায় মিন্টো রঞ্জিত সিং এর সাম্রাজ্যের সীমারেখা শতদ্রু নদীর সীমানায় বেঁধে রাখতে সংকল্পবদ্ধ হন। এদিকে শতদ্রুর পূর্ব-দক্ষিণ তীরস্থ ঐ শিখ মিশল্ গুলির সর্দারেরা  রঞ্জিত সিং এর অধীনে আসতে চাইছিলেন না বলে তাঁরা ব্রিটিশ সাহায্য চান ও মিন্টো  অতি সত্বর তাদের সাথে চুক্তি স্থাপন করে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে কোম্পানির আশ্রিত অঞ্চলে পরিণত করেন। এভাবে শতদ্রু থেকে যমুনা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে কোম্পানির আশ্রিত বাফার রাজ্যে পরিণত করে মিন্টো দিল্লীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেন।

এরপর মিন্টো রঞ্জিত সিং এর লাহোর দরবারে স্যার চার্লস মেটকাফ কে অত্যন্ত গুরু দায়িত্ব দিয়ে দূত হিসাবে পাঠান। মেটকাফ কে দুই পরস্পর বিরোধী কর্তব্য পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রথমতঃ আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে নেপোলিয়নের সম্ভাব্য আক্রমণ রুখতে কোম্পানি ও রঞ্জিত সিং এর মধ্যে একটি আত্মরক্ষা মূলক মিত্রতা চুক্তি সম্পাদন ; আবার দ্বিতীয়তঃ, রঞ্জিত সিং শতদ্রু নদীকে তাঁর সীমানা হিসেবে মেনে নিয়ে শতদ্রুর পূর্ব-তীরস্থ শিখ মিশল্ গুলির দাবি পরিত্যাগের স্বীকারোক্তি চুক্তি সম্পাদন।

মেটকাফ তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। এদিকে নেপোলিয়নের পতনের পর মিন্টোর নির্দেশে শতদ্রুর পূর্ব তীরে ব্রিটিশ সেনা ছাউনি স্থাপন করে কুচকাওয়াজ ও সামরিক ঘোষণা জারি করে রঞ্জিত সিং এর মনে ভীতি উৎপাদনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে রঞ্জিত সিং নমনীয় হন ও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে অমৃতসর সন্ধির দ্বারা শতদ্রু থেকে যমুনা পর্যন্ত অঞ্চলে তাঁর দাবি পরিত্যাগ করেন। শতদ্রুর অপর তীরে মহারাজের পূর্ণ আধিপত্য কোম্পানি মেনে নেয়। মহারাজ পাঞ্জাবে ব্রিটিশ বাণিজ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। বিনা যুদ্ধে শুধু মাত্র কূটনীতির সাহায্যে লর্ড মিন্টো এতবড় সাফল্য লাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *