- History, Study Materials

British Expansion in India : 1772 – 1818 : Part – VII : Lord Hastings (1813 – 1823) : Part – C : Third Anglo – Maratha War

পিন্ডারী দমনের পর হেস্টিংস মারাঠা শক্তিকে ধূলিসাৎ করতে মনস্থ করেন। দ্বিতীয় ইঙ্গ- মারাঠা যুদ্ধের পর মারাঠা নেতারা আত্ম-সংগঠনের কোন চেষ্টা করেননি। ফলে মারাঠা রাষ্ট্রে পচনশীলতা ও অরাজকতা দেখা দেয়। বাইরের অঞ্চল থেকে চৌথ আদায়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের অর্থনৈতিক সংকটও তীব্র হয়। মারাঠা রাষ্ট্র মন্ডলের অধিকর্তা পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও বেসিনের সন্ধির (১৮০২) দৃড় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তখন হাঁসফাঁস করছিলেন। ইংরেজ রেসিডেন্ট এলফিনস্টোনের রূঢ় হস্তক্ষেপে পেশোয়া দরবার ইংরেজদের আজ্ঞাবহ হয়ে উঠেছিল  মাত্র।কিন্তু দ্বিতীয় বাজীরাও এর মন্ত্রী ত্রিম্বকজী ডিংলে ছিলেন ঘোর ইংরেজ বিরোধী , আর তাই এলফিনস্টোনের একেবারে চক্ষুশূল। অপরদিকে গাইকোয়াড়ের মন্ত্রী গঙ্গাধর শাস্ত্রী ছিলেন ইংরেজদের সমর্থনকারী । গঙ্গাধর শাস্ত্রী তীর্থযাত্রা কালে আততায়ীর হাতে খুন হলে এলফিনস্টোন স্বভাব মত ত্রিম্বকজী কে দোষী মনে করেন এবং রীতিমত ভীতি প্রদর্শন করে পেশোয়াকে বাধ্য করেন ত্রিম্বকজীকে কোম্পানির হাতে তুলে দিতে। পরবর্তীতে পেশোয়ার গোপন প্রয়াসে ত্রিম্বকজী ইংরেজ কারাগার থেকে পলায়নে সক্ষম হন। এলফিনস্টোন পেশোয়ার উপর ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন পুনরায় ত্রিম্বকজীকে সমর্পণ করার জন্য। কর্ণেল স্মিথ ইংরেজ সেনাবাহিনীর দ্বারা পুণা অবরোধ করে পেশোয়াকে ভীত সন্ত্রস্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকেন।

এমতাবস্থায় আসন্ন পিন্ডারী যুদ্ধের প্রাক্কালে লর্ড হেস্টিংস পেশোয়াকে পুণার সন্ধি (১৮১৭) স্বাক্ষরে বাধ্য করেন। মারাঠা রাষ্ট্রমন্ডল ভেঙে দেওয়া হয় ও পেশোয়া পদের বিলুপ্তি করা হয়। হোলকার, সিন্ধিয়া, ভোঁসলে, গাইকোয়াড় প্রভৃতি মারাঠা সামন্ত সর্দারদের উপর পেশোয়ার সকল অধিকার লোপ পায়। দৌলতরাও সিন্ধিয়াকেও একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয় যার দ্বারা রাজপুত রাজ্যগুলি সিন্ধিয়ার অধিকার মুক্ত হয়ে কোম্পানির সঙ্গে সন্ধিতে আবদ্ধ হয়। এদিকে হোলকার কেও রাজধানী ইন্দোরে ব্রিটিশ রেসিডেন্ট গ্রহণে বাধ্য করা হয়। নাগপুরের সন্ধির দ্বারা ভোঁসলের সিংহাসনে আপ্পাসাহেব কে বশ্যতা মূলক সন্ধি মেনে নেওয়ার শর্তে সমর্থন করা হয়। এরপর জয়পুর, উদয়পুর, যোধপুর সহ ১৯ টি রাজপুত রাজ্য বশ্যতা মূলক চুক্তিতে বাধা পড়ে।

বলাই বাহুল্য, এইসব সন্ধি গুলির কঠোর শর্ত মারাঠা নেতাদের আত্মমর্যাদা ও জাতীয়তাবাদ কে সজোরে আঘাত করেছিল। আর তাই মারাঠা স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টায় সিন্ধিয়া ব্যতীত অপর সকল মারাঠা নেতারা পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও এর পক্ষ নিয়ে শেষবারের মত ইংরেজ দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পেশোয়া পুণার ব্রিটিশ রেসিডেন্সি অগ্নিদগ্ধ করেন। রেসিডেন্ট এলফিনস্টোন ও সহযোগী ডাফ কির্কি তে অবস্থিত ইংরেজ সেনাছাউনি তে আশ্রয় নেন। হেস্টিংস এই যুদ্ধের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন। পেশোয়া ইংরেজ ঘাঁটি কির্কি ( বা খিড়কি ) আক্রমণ করে পরাজিত হন। পলায়মান পেশোয়ার পিছু ধাওয়া করে, ইংরেজ সেনা ১৮১৮ খ্রিঃ কোরেগাঁও ও অষ্টির যুদ্ধে পেশোয়া বাহিনীকে চূড়ান্ত ভাবে পরাজিত করে। পেশোয়া ইংরেজ দূত স্যার জন ম্যালকমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এদিকে সিতাবলদির যুদ্ধে ( ১৮১৭ ) আপ্পাসাহেব পরাস্ত হয়। মাহিদপুরের যুদ্ধে হোলকারের সেনাদল পরাস্ত হয়। এভাবে তৃতীয় ইঙ্গ- মারাঠা যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

এই যুদ্ধে জয়লাভের পর লর্ড হেস্টিংস বিখ্যাত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত (১৮১৮) স্থাপন করেন। পেশোয়া পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে তাঁকে বছরে ৮ লক্ষ টাকা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। পেশোয়ার রাজ্যের একাংশ শিবাজীর বংশধর প্রতাপ সিংহ কে দান করা হয়। পেশোয়ার অবশিষ্ট রাজ্য কোম্পানির বোম্বে প্রেসিডেন্সির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। নাগপুরে ভোঁসলের ক্ষেত্রে বিদ্রোহী আপ্পাসাহেবকে গদীচ্যুত করে রঘুজী ভোঁসলের পৌত্র তৃতীয় রঘুজী কে সাম্রাজ্যের একাংশের স্বীকৃতি দেওয়া হয় ও রাজ্যের একটি বিরাট অংশ কোম্পানির সংযুক্ত করা হয়। রাজপুত রাজ্যগুলির সঙ্গে বশ্যতা মূলক শর্ত ছাড়াও আরও কিছু করে শর্ত চাপিয়ে কোম্পানির সাথে  কমবেশি ১৯ টি নতুন সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের পর লর্ড হেস্টিংস মোগল সম্রাট কে ভারতের সার্বভৌম শক্তি হিসেবে মান্যতা দিতে অস্বীকার করলেন। এতদিন কোম্পানি তার সীল মোহরে ” মোগল বাদশাহের পক্ষে তাঁর ভৃত্য ” কথাটি ব্যবহার করত এবং মোগল বাদশাহকে দরবারে গভর্নর জেনারেল কুর্ণিশ করতেন। হেস্টিংস এই প্রথার অবসান ঘটান। কোম্পানিকে তিনি ভারতের সার্বভৌম শক্তি হিসেবে গণ্য করেন। তবে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ অবধি কোম্পানির মুদ্রায় বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের নাম ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *