- History, Study Materials

British Expansion in India : 1772 – 1818 : Part – II : Lord Cornwallis (1786-1793) & 3rd Anglo Mysore War (1790 – 92)

দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ টিপুর বিশেষ ক্ষমতা হানি ঘটায়নি । মহীশূরের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা সম্পর্কে কোম্পানির আশঙ্কা তখনও যথেষ্টই ছিল। এমতাবস্থায় লর্ড কর্ণওয়ালিস টিপুর সঙ্গে যুদ্ধকে অনিবার্য মনে করেন। মূলতঃ তাঁরই উদ্যোগে ইংরেজ, মারাঠা ও নিজামের ত্রিশক্তি জোট গড়ে ওঠে। অথচ টিপু তখনও ম্যাঙ্গালোর সন্ধি মেনে চলছিলেন। কর্ণওয়ালিস এই সন্ধির আড়ালেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন।

এদিকে গুন্টুর ও বালাঘাট নিয়ে এক জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়। ১৭৬৫ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানির মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক চুক্তি অনুযায়ী নিজামের ভাই বসলৎ জঙ্গ্ কে গুন্টুর জেলা কেবলমাত্র জীবিত সময়কালের জন্য ভোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ১৭৮২ তে বসলৎ এর মৃত্যুর পর গুন্টুর জেলা কোম্পানিকে ফেরত দেবার জন্য কর্ণওয়ালিস নিজামকে চাপ দেন। কিন্তু নিজাম দাবি করেন যে যদি ১৭৬৮-র মুসলিপটনম সন্ধি অনুযায়ী কোম্পানি যদি তাঁকে বালাঘাট অঞ্চল জয় করার জন্য সেনা সরবরাহ করতে রাজী হয়, তবেই তিনি গুন্টুর ফেরত দেবেন। কিন্তু ১৭৮৪-র ম্যাঙ্গালোর সন্ধিতে বালাঘাটে টিপুর বৈধ অধিকার কোম্পানি ততদিনে স্বীকার করে নিয়েছে।

কর্ণওয়ালিস টিপুকে ধ্বংস করার মনস্থির করেই ফেলেছিলেন। তাই ন্যায় নীতি বিসর্জন দিয়ে তিনি মুসলিপটনমের সন্ধিকে মান্যতা দেন এই যুক্তিতে যে মুসলিপটনমের সন্ধি আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে! ইংল্যান্ডের অভিজাত বংশীয় একজন বিশিষ্ট ব্যাক্তির এহেন কপট আচরণকে এমনকি অনেক ব্রিটিশ ঐতিহাসিকও বিশ্বাসঘাতকতা বলে নিন্দামুখর হয়েছেন। পার্সিভাল স্পিয়ারের মতে নিজামের দুমুখো নীতি ও মারাঠাদের সদা পরিবর্তনশীল বিশ্বাসহীন নীতির সঙ্গে কর্ণওয়ালিসের এই নীতির কোন তফাৎ ছিল না।

৭ ই জুলাই ১৭৮৯ কর্ণওয়ালিস নিজামকে এক কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে জানান যে ১৭৬৮-র সন্ধি অনুযায়ী নিজামকে কোম্পানি সেনা সরবরাহ করতে প্রস্তুত, তবে এই সেনাদলকে কোম্পানির মিত্র শক্তির বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা যাবে না। কোম্পানির মিত্র শক্তির একটি তালিকাও নিজামের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যাতে টিপুর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হয়েছিল।

টিপু এই পত্রের কথা জানতে পেরে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন এবং কোম্পানির মিত্র রাজ্য ত্রিবাঙ্কুর আক্রমণ করেন। কর্ণওয়ালিস এরকম কিছু একটা ঘটনার জন্য ওঁত পেতে বসেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেন যে টিপু ম্যাঙ্গালোর সন্ধি অমান্য করেছেন। ইংরেজ, নিজাম ও মারাঠা এই ত্রিশক্তি জোট টিপুকে আক্রমণ করলে তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ (১৭৯০-৯২) আরম্ভ হয়।

যুদ্ধের গোড়ার দিকে ইংরেজ সেনাপতি মেডোজ পিছু হঠেন। কর্ণওয়ালিস তখন যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব নেন ও শ্রীরঙ্গপত্তনের দিকে অগ্রসর হন। টিপুকে সাময়িক ভাবে পরাস্ত করলেও রসদের অভাবে শেষ পর্যন্ত আবার পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। পরে মারাঠাদের সহযোগিতায় কর্ণওয়ালিস শ্রীরঙ্গপত্তন অবরোধ করেন। টিপু শেষ পর্যন্ত ইংরেজ-মারাঠার যৌথ আক্রমণে পরাস্ত হয়ে ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরঙ্গপত্তনের সন্ধি স্বাক্ষর করে যুদ্ধের অবসান করেন।

এই সন্ধি দ্বারা টিপু তাঁর রাজ্যের অর্ধাংশ কোম্পানিকে হস্তান্তর করেন যা ইংরেজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে ভাগ হয়। কোম্পানি ৩৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরণ আদায় করে। এই সন্ধি পালনের জামিন স্বরূপ টিপু তাঁর দুই পুত্রকে কোম্পানির হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন ও কর্ণওয়ালিস তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসেন। তাই এই সন্ধি টিপুর পক্ষে কতটা মর্যাদা হানিকর ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *