- History, Study Materials

Lord Dalhousie & 2nd Anglo-Sikh War : Part-I

১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ভারতবাসী ও ভারতীয় সভ্যতা সম্পর্কে এক তাচ্ছিল্য পূর্ণ মনোভাব পোষণ করে লর্ড ডালহৌসি ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল পদে যোগ দেন । তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন ভারতবাসীর মঙ্গলের জন্য এদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার একান্ত প্রয়োজন। যেখানে পূর্ববর্তী গভর্নর জেনারেলরা প্রায় বাধ্য না হলে রাজ্য অধিগ্রহণের পথে যেতেন না, সেখানে ডালহৌসির নীতিই ছিল আইনের ফাঁককে ব্যাবহার করে ন্যায় নীতি বিসর্জন দিয়ে যেভাবে খুশি সম্ভব রাজ্য অধিগ্রহণ করে নেওয়া। তাই অধিগ্রহণের ” ন্যায্য ” সুযোগ পেলেই ডালহৌসি তার সদ্ব্যবহার করতে ছাড়তেন না। তবে ন্যায্য সুযোগ ও অন্যায় অধিগ্রহণের মধ্যে পার্থক্য যে কি তা তিনি নিজেও যেমন কোনদিন স্পষ্ট করেননি, তেমন তাঁর কাজকর্ম দেখেও বোঝা যায়নি।

প্রথম ইঙ্গ- শিখ যুদ্ধ শেষে লাহোরের সন্ধি (১৮৪৬) দ্বারা পাঞ্জাবের ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছিল। একাংশ নাবালক মহারাজা দলীপ সিং ও তাঁর অভিভাবিকা ও মাতা রাণী ঝিন্দনের হাতে থাকে ; আর অপরাংশ কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। পাঞ্জাবের ২/৩ অংশ কোম্পানির হাতে চলে যায় ; আর অবশিষ্ট রাজ্যকে রক্ষার অজুহাতে লাহোরে ইংরেজ রেসিডেন্ট ও সেনাদল রেখে দেওয়া হয়। ইংরেজ রেসিডেন্ট লাহোর দরবারে প্রচুর অযাচিত হস্তক্ষেপ আরম্ভ করে। এর বিরুদ্ধে রাণী মাতা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে লাহোর থেকে সরিয়ে শেখপুরায় প্রায় নজরবন্দী করে রাখা হয় ও তাঁর ভাতার মাত্র ১/৩ অংশই বহাল রেখে বাকি ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাণীর প্রতি কোম্পানির এই অপমানজনক আচরণ শিখ জাতির আত্মমর্যাদায় গভীর আঘাত করে।

লাহোর দরবারের উজির লাল সিং এর প্ররোচনায় কাশ্মীরের শাসনকর্তা ইমামউদ্দীন বিদ্রোহ ঘোষণা করলে ইংরেজ সেই বিদ্রোহ দমন করে ও লাল সিং কে নির্বাসনে পাঠায়। লাহোর দরবারের সাথে কোম্পানির এই বিরোধের সময় ডালহৌসি জন লরেন্স কে ব্রিটিশ অধিকৃত পাঞ্জাবের শাসনকর্তা ও এডওয়ার্ড কিউরি কে লাহোর দরবারে কোম্পানির দূত হিসাবে নিয়োগ করেন। এরা ছিলেন ডালহৌসির নীতির কট্টর সমর্থক। লাহোর দরবারে তাদের হস্তক্ষেপ শিখ সর্দারদের মনে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

এমতাবস্থায় মূলতানের দেওয়ান মূলরাজ ব্রিটিশ কর্তৃক অন্যায় ভাবে চাপিয়ে দেওয়া শর্তসমূহ পূরণ করতে অক্ষমতা জানিয়ে পদত্যাগ করলে এডওয়ার্ড কিউরি কাহান সিং মান্ কে মূলতানের নতুন দেওয়ান নিযুক্ত করেন। ঘোর অসন্তোষ জানিয়ে মূলরাজ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং গোটা মূলতান ইংরেজ বিরোধী বিদ্রোহে জ্বলে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাবের বিভিন্ন অঞ্চলেও বিদ্রোহ দেখা যায় ও শিখ দের সঙ্গে আফগানরাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। এভাবেই মূলতানের একটি স্থানীয় বিদ্রোহ কে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধের সূচনা হয়।

( চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *